ঢাকায় মেড ইন পাকিস্তান প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে বক্তারা

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে শিগগিরই সরাসরি ফ্লাইট চালুর আশা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। তারা মনে করেন, সরাসরি ফ্লাইট যোগাযোগ চালু হলে শুধু পণ্য বিনিময় নয়, বরং পর্যটন, সংস্কৃতি ও মানবিক সম্পর্কও নতুন মাত্রা পাবে।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গতকাল পাঁচ দিনব্যাপী ‘মেড ইন পাকিস্তান’ শীর্ষক এক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। মেলায় পাকিস্তানের নারী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠান পোশাক, খাদ্যপণ্য, অ্যাকসেসরিজসহ নানা পণ্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া হলো এক সম্ভাবনাময় বাণিজ্য অঞ্চল। বাংলাদেশ বর্তমানে মাত্র ৬০টি দেশে চার বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করছে, যা মোট রফতানির মাত্র চার শতাংশ। অথচ পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও চুক্তি হলে এই সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা এরই মধ্যে অনেক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, কৃষিজ পণ্য, কসমেটিকস ও সেবা খাতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এখনই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট চালুর উপযুক্ত সময়।’

স্বাগত বক্তব্যে পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রির (পিএইআই) চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস বলেন, ‘এটি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ মেলার আয়োজন করা হলো। তবে দীর্ঘ বিরতির পর আবার এই আয়োজন করতে পারা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।’

তিনি জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) বাস্তবায়ন করা গেলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পিএইআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এম খুরশিদ বারলাস বলেন, ‘যৌথ উদ্যোগ ও নীতিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে হলে সহজ ভিসা প্রক্রিয়া ও সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিকল্প নেই।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন হ্যান্ডি ক্র্যাফট অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের (হাপ) চেয়ারপারসন আয়শা ফারুকী।

আরও